শ্রীবরদী থানার সদ্য বিদায়ী ওসির আবেগঘন স্ট্যাটাস

89

শ্রীবরদী থানার সদ্য বিদায়ী অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারের অফিসার ইনচার্জ হিসেবে শ্রীবরদীতেই প্রথম যোগদান। ২০১৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর যোগদানের পর সুনামের সাথে তিঁনি শ্রীবরদী থানায় ২ বছরের অধিক সময় অতিবাহিত করেছেন। যোগদানের শুরুতেই তিঁনি আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে যে দক্ষতা ও বিচক্ষনতার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন তা প্রশংসিত হয়েছিলো সর্বমহলে এবং শেষ অবধি পর্যন্ত যে তিঁনি শুরুর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন, বিদায়ের পর এই বিষয়টিতে ভূয়সী প্রশংসা পাচ্ছেন শ্রীবরদীবাসীর পক্ষ থেকে ।

সম্প্রতি তিনি এই ( শ্রীবরদী থানা) কর্মস্থল থেকে বিদায় নিয়েছেন এবং জেলা গোয়েন্দা শাখা, শেরপুরে অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেছেন। বিদায় বার্তা ছড়িয়ে পরার পর, বিদায়ী ওসিকে নিয়ে শ্রীবরদীর ফেসবুক ইউজারদের শতশত আবেগঘন স্ট্যাটাসগুলো ছিলো চোখে পরার মত বিষয়। পরবর্তীতে বিদায়ী ওসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদারও শ্রীবরদী বাসীর ভূয়সী প্রশংসা করে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা সত্যিই মনে নাড়া দেওয়ার মত। স্ট্যাটাসটি থেকে উপলব্ধি হচ্ছে, আমরা একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সহযোগীতা করতে পেরেছিলাম এবং ভালোবাসতে পেরেছিলাম বলেই তিঁনি তাঁর হৃদয় থেকে আমাদের ( শ্রীবরদীবাসী) কে এভাবে সম্মানিত করেছেন।

শুরু থেকেই শেরপুরের সুযোগ্য পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় সামাজিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন অসংগতি দূরীকরণে তিঁনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। পুলিশের সেবা জনগনের দ্বারে পৌছে দেওয়া নিশ্চিত করতে তাঁর প্রভাবমুক্ত থাকার দৃঢ়তা প্রশংসিত হয়েছে সর্বমহলে। সুদখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, যানবাহন চাঁদা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মাদক, জুয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, চুরি ডাকাতি নিরসনে সফলতা – মনে রাখার মত বিষয় । স্থানীয় বিভিন্ন ধরনের জমিজমা সংক্রান্ত মামলার জটলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতাটাও প্রশংসা কুড়িয়েছে সবার। করোনা ভাইরাসের ক্রান্তিকালে তাঁর মানবিক নিবেদন হৃদয় ছুঁয়েছে সবার । জুনিয়র অফিসারদের উদ্বুদ্ধকরণে তার সুদক্ষতার কথা শ্রীবরদী থানার প্রতিটি অফিসারের মুখেমুখে ।

চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ, হত্যা মামলার আসামীদের দ্রুত সময়ে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে তিঁনি যে সুনাম রেখে গেছেন তা অনন্য। শ্রীবরদী থানায় যোগদানের পর থেকে তাঁর চৌকস নেতৃত্বে উপজেলায় মাদক উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, অপরাধ দমন সহ আইন-শৃঙ্খলার সার্বিক উন্নয়নে দারুন কাজ করেছে শ্রীবরদী থানা পুলিশ। কর্মক্ষেত্রে সফলতা ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিঁনি ইতিমধ্যে আইজিপি ব্যাজ পদক অর্জন করেছেন।

এর আগে তিঁনি ময়মনসিংহ রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। তাঁর জনবান্ধব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই তিনি স্থানীয়দের মনে জায়গা করে নিয়েছেন । সাধারণ মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন । শ্রীবরদীবাসীর কাছে তিনি ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। (… এ.জেড রুমান)

৫ ডিসেম্বর রাতে OC DB Sherpur ফেইসবুক টাইমলাইনে শ্রীবরদী ও শ্রীবরদীবাসীকে ঘিরে তাঁর আবেগঘন স্ট্যাটাসটি নিচে তুলে ধরা হলো- ——————————— আসসালামু আলাইকুম, #হৃদয়ে_থাকবে_শ্রীবরদী (কাজের ব্যস্ততায় অনুভূতিটুকু প্রকাশ করতে দেরী হলো।) শ্রীবরদীতে অফিসার ইনচার্জ হিসাবে আমার প্রথম পদায়ন। যতদিন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে আমার উপর সেবা প্রদানের দায়িত্ব অর্পিত ছিলো – অপরাধ দমন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ উন্নয়নে সবসময় দৃঢ় প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। শুরু থেকে বিদায় অবধি পর্যন্ত শ্রীবরদী থানার সহযোদ্ধাদের সাথে নিয়ে সুদক্ষ ইউনিটি গড়ে নীতিতে অটল থাকার চেষ্টা করেছি, পুলিশিংকে করতে চেয়েছি জনবান্ধব। কতটুকু সফল হয়েছি, সেটা মূল্যায়ণের ভার নিশ্চিত করেই শ্রীবরদীবাসীর উপর। তবে প্রিয় শ্রীবরদীবাসীর যতটুকু ভালবাসা পেয়েছি, এখনও পাচ্ছি – তাতে উপলব্ধি, অবশ্যই এই প্রাপ্তি চাকরি জীবনের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। বলার মত অনেক সুখকর স্মৃতিময় ঘটনাই রয়েছে, কিন্তু লিখাকে দীর্ঘায়িত করতে চাইনা। বলতে চাই পুলিশের চাকরির অনিবার্য বাস্তবতার কথা -√ আসলে অধিকাংশ সময়েই আমাদের কাজ করতে হয় দুটো পক্ষকে নিয়ে। তাই নিশ্চিত করেই কেও খুশি হলে কেও অখুশি হন। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি শ্রীবরদীর সামাজিক প্রেক্ষাপটে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। কখনই চাইনি কাওকে কষ্ট দিতে, অন্তত সান্তনাটুকু হলেও দিতে চেষ্টা করেছি। এই চেষ্টায় ভুলত্রুটি থাকতেই পারে। প্রত্যাশা রাখছি – শ্রীবরদীবাসী অবশ্যই বাস্তবতার আলোকে ভেবে আমার জন্য দোয়া রাখবেন। প্রিয় শ্রীবরদীবাসীর জন্য আমার হৃদয় থেকেও সবসময় দোয়া থাকবে। সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দিক থেকে শ্রীবরদীবাসীর ঐক্যবদ্ধতায় শ্রীবরদী ক্রমশই উন্নতি থেকে উন্নতির দিকে এগিয়ে যাক এই দোয়া করি। হৃদয়ে থাকবে শ্রীবরদীর প্রশাসনের কর্মকর্তা- কর্মচারী, সাংবাদিক ভাইদের কথা , সমাজকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কথা। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই অকৃত্রিম সহযোগীতা পেয়েছি। শ্রীবরদী থানা পুলিশের সকল অফিসারবৃন্দ, প্রতিটি সদস্য – নিশ্চয় সবার অনুভূতিতেই রয়েছে – একটি অসাধারণ ইউনিটি আমরা গড়ে তুলেছিলাম, এককথায় অনন্য বন্ধনে আবদ্ধ একটি পরিবার। এই পরিবারকে আমি আজীবন মিস করবো। আজীবন দোয়া ভালবাসা রয়ে যাবে। সবাই যথাযথ দায়িত্ব পালন করে শ্রীবরদী থানা প্রশাসনের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবেন এই প্রত্যাশা করি। কোন প্রকার অযাযিত তদবীরের তোয়াক্কা না করে, ২বছরের অধিক সময় দৃঢ়তার সহিত অফিসার ইনচার্জ হিসেবে শ্রীবরদী থানায় কর্মরত থেকে যতটুকু সফলতা অর্জন করেছি সেক্ষেত্রে মাননীয় পুলিশ সুপার জনাব কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম মহোদয়ের উপদেশ, যথাযথ দিক নির্দেশনা আমার কাজের পথকে করেছে প্রশস্ত। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি মাননীয় পুলিশ সুপার মহোদয় সমীপে। সহযোগীতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি জেলা পুলিশের শ্রদ্ধাভাজন সকল উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগনের প্রতি। …..মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার অফিসার ইনচার্জ, জেলা গোয়েন্দা শাখা, শেরপুর।