ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে নকলায় রোগী দেখার অভিযোগ মুক্তাগাছার ইউএইচও’র বিরুদ্ধে

439

নকলা, শেরপুর: সরকারি গাড়ির অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার না করা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞায় কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস সাথীর। বেশির ভাগ সময় ব্যক্তিগত কাজেই তিনি ব্যবহার করছেন সরকারি গাড়ি।

তাতে একদিকে যেমন জ্বালানি তেল বেশি যাচ্ছে সরকারি কোষাগার থেকে। তেমনি ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের। অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় যোগদানকালে সরকারের পক্ষ তাকে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য কালো রঙের উন্নতমানের একটি গাড়ি দেওয়া হয়। নিয়ম রয়েছে সরকারি কাজ ছাড়া উপজেলার বাইরে গাড়ি নিয়ে যেতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও সংশ্লিষ্ট কারণ থাকতে হবে। অথচ চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস সাথী ও তার স্বামী চিকিৎসক ইমরান হোসেন প্রতি শুক্রবারে মুক্তাগাছা উপজেলার বাইরে প্রতি শুক্রবার শেরপুরের নকলা উপজেলায় আসেন রোগী দেখতে। যা মুক্তাগাছা উপজেলা থেকে শহরের দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার। এমনকি তাদের বাড়ি এই উপজেলায় হওয়ায় মাঝে মধ্যে সেই গাড়ি নিয়ে বেড়াতেও আসেন বলে অনেকেই অভিযোগ করনে। এসব কারণে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করায় জ্বালানি তেল বেশি লাগছে। তাতে বদনাম ছড়াচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগের।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিতরে সরকারি গাড়ি রেখে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস সাথী হাসপাতালের সামনে একটি চেম্বারে বসে রোগী দেখেন এবং প্রতি শুক্রবারই এখানে রোগী দেখেন। এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন সরকারি গাড়ি। এ ব্যাপারে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গাড়ির চালক মো. জিয়াউল হক বলেন, স্যার নকলা আসছে ব্যাক্তিগত কাজে এবং প্রতি শুক্রবারে এখানে চেম্বার করেন। এর আগেও স্যার আসছে এখানে রোগী দেখতে। “স্যার আমাকে যেখানে যেতে বলে আমি যাই। আমি গাড়ি চালক। আমাকে যেখানে যেতে বলবে আমাকে সেখানেই যেতে হবে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস সাথী ও তার স্বামী চিকিৎসক ইমরান হোসেন তরিঘরি করে চেম্বার ছেড়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে ময়মনসিংহের উদ্যেশে চলে যায়।

শেরপুরের সিভিল সার্জন চিকিৎসক মো. আনওয়ারুর রউফ এর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই চিকিৎসক সরকারি গাড়ি ব্যাক্তিগত কাজে ব্যাবহার করতে পারে না। আমি বিষয়টি নিয়ে ময়মনসিংহ সিভিল সার্জনের কাছে রিপোর্ট করব।

সরকারি যেকোনো যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে জানিয়ে ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন বলেন, “অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাইলেই তার ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না।” সে যে সরকারি গাড়ি নিয়ে নকলায় রোগী দেখতে গিয়েছে তার প্রমানসহ রিপোর্ট করেন এবং আমাদের দেন আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।