আমার দেখা সেই ছেলেটি: তালাত মাহমুদ

52

যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কখনও কখনও ভাগ্যের কাছে হার মানে। কোন কোন ভাগ্য লটারীর মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। কারও কারও ভাগ্য আবার আপনা-আপনি ধরা দেয়। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যাবসায় আর গভীর সাধনা করেও অনেকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি, পুরস্কার ও সফলতা অর্জন করতে পারে না। এটাই নিয়তি। অবশ্য যারা নীরবে-নিভৃতে মানুষের জন্য, সমাজের জন্য ও জাতির জন্য আত্মনিবেদন করে থাকেন, জীব-বৈচিত্র্যের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন তাদের কথা আলাদা।

জাতীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে অনেক খ্যাতিমান মানুষের প্রারম্ভীক কর্মময় জীবনের কথা বলতে গেলে বলতে হয়, অজানা-অচেনা অবস্থান থেকে উঠে আসা সৃজনশীল মেধার অধিকারী সেসব অনন্য ব্যক্তিত্ব দেশ ও জাতির সেবা করে খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছেন। ইংল্যান্ডের কবি এইচ বেলী বলেছেন, ‘Thus let me unseen unknown/Thus untalented let me die.’ .’ অর্থাৎ ‘এইভাবে আমাকে থাকতে দাও অজানা-অচেনা/ আমাকে মরতে দাও সেইভাবে’।
কিন্তু সেসব ব্যক্তিরা কি অজানা-অচেনা থাকতে পেরেছেন? না, পারেননি। সমাজ বিনির্মাণে আর জাতি গঠনে মানবপ্রেমিক এইসব কৃতিব্যক্তিত্ব নিজেদের বিলিয়ে দিয়েছেন; রেখে গেছেন তাদের কর্মময় জীবনের বর্ণাঢ্য ইতিহাস। যা মানুষ যুগ যুগ ধরে স্মরণ করে। মহাকবি শেখ সাদী বলেছেন ‘তজবীহ এবং সিজদা দেখে খোদ এলাহী ভুলবে না/ মানব সেবার কুঞ্জী ছাড়া স্বর্গদ্বার খুলবে না’।

এই সময়ের তেমনই এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব রফিকুল ইসলাম আধার, যিনি ঐতিহ্যবাহী শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও দু’দফায় নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক, লব্ধপ্রতিষ্ঠ আইনজীবী, কবি, সাংবাদিক, রাজনীতিক, সংগঠক, শিক্ষানুরাগী, জনদরদী ও দানশীল মনোবৃত্তির অধিকারী। রফিকুল ইসলাম আধার একজন অনন্য চেতনাসমৃদ্ধ সৃজনশীল মেধাবী মানুষেরও নাম। তারুণ্যদীপ্ত চিন্তা-চেতনার ভারে নত এই মানুষটি নীরবে-নিভৃতে তিলে তিলে যা সঞ্চয় করেছেন এবং যে কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্র তৈরি করেছেন তা অবগত হয়ে অনেকেই অবাক বনে যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি, সহ-সভাপতি ইত্যাদি পদ অলংকৃত করে একজন শিক্ষানুরাগী হিসেবে তিনি তার যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন।

তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩৩ বছর যাবত অর্থাৎ ১৯৮৭ সাল থেকে সাহিত্য ও সাংবাদিকতার সাথে জড়িত। সেই সুবাদে তিনি যেমন পত্রিকার সম্পাদক ও সাংবাদিক হিসেবে সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখেছেন, তেমনই শুরু থেকে শেরপুর জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য ও কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দু’দফায় ওই সংগঠনের সভাপতির গুরু দায়িত্বও পালন করেছেন সফলতার সাথে। তিনি অনলাইন নিউজপোর্টাল ‘শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’ এর সম্পাদক ও প্রকাশক। এছাড়া দৈনিক জনকণ্ঠ ও বাংলাদেশ বেতার এর শেরপুর জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। সেই সাথে আছেন শেরপুরের আদি নামানুসারে প্রকাশিত মুখপত্র সাপ্তাহিক দশকাহনীয়া’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন অত্যন্ত সাহসীকতা ও ধৈয্যের সাথে। সেই সুবাদে তিনি এতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে যেমন একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, তেমনই বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্র-পত্রিকায় রাজনীতি, অর্থনীতি ও সামাজিক অবক্ষয়ের উপর বিভিন্ন নিবন্ধ লিখে পাঠকপ্রিয়তাও অর্জন করেছেন।
রফিকুল ইসলাম আধার বিভিন্ন সাহিত্য-ক্রীড়া ও সংস্কৃতি এবং সামাজিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকে এ অঞ্চলের সাহিত্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। শুধু তাই নয়, শেরপুরের বিভিন্ন শ্রমজীবী ও পেশাজীবী সংগঠনের উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব পালন করে তিনি শ্রমিক সমাজের প্রিয়পাত্রে পরিণত হন।

তিনি পেশাগত জীবনে একজন আইনজীবী হিসেবে শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে ২০০০ সালে যোগদান করেন। এরপর থেকেই জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পর্যায়ক্রমে নির্বাহী কমিটির সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, অডিটর, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের আইনগত সহায়তা দানে সচেষ্ট আছেন। শেরপুর জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির একজন সম্মানিত সদস্য হিসেবে তিনি অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন। তার জীবনে ব্যর্থতার কোন স্থান নেই।

রফিকুল ইসলাম আধার ছাত্রজীবন থেকেই সাহিত্য চর্চা করে আসছেন। একজন কবি হিসেবে শুধু শেরপুর জেলাতেই ননÑ জামালপুর, ময়মনসিংহ ও রাজধানী ঢাকাতেও তার সুনাম রয়েছে। তিনি শেরপুর নজরুল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি, কবি সংঘ বাংলাদেশের কার্যকরি সভাপতি, শেরপুর জেলা ইতিহাস পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এই কর্মপাগল ব্যক্তিটিকে আমি তার ছেলেবেলা থেকেই চিনি। আজ থেকে ৪০/৪১ বছর আগে; সেটা ১৯৭৭/৭৮ সালের কথা। তখন রফিকুল ইসলাম আধার ৭/৮ বছরের বালক। আশির দশকে অনেকটা সময় আমি দমদমা কালিগঞ্জের সেই সরকার বাড়িতে কাটিয়েছি। কৈশোরে রফিকুল ইসলাম আধার দমদমা-কালিগঞ্জে অনির্বাণ তরুণ সংঘ (অতস) এর প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি ছিলেন। তিনি একজন ভালো আবৃত্তিকার ও একজন সুবক্তাও বটে। আমাদের অত্যন্ত প্রিয় মানুষ কবি-সাংবাদিক-সংগঠক ও সফল আইনজীবী রফিকুল ইসলাম আধার তার কর্মনৈপূণ্যের মাধ্যমে আগামীদিনে এই লেখার সূচনা পর্বকে আরও অধিক অর্থপূর্ণ করে তুলবেন বলে আশাবাদী।

আগামীদিনের সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার তার মেধা, যোগ্যতা ও শ্রম দিয়ে নিজেকে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। প্রচন্ড সাংগঠনিক কর্মক্ষমতার অধিকারী এবং সংস্কারমুক্ত ও গঠনমূলক রাজনীতির প্রবক্তা সর্বোপরি স্বাধীনতার স্বপক্ষ সৈনিক এই কর্মপ্রাণ ব্যক্তিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের অনুসারী। তিনি বর্তমানে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দফায় তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেই সুবাদে তিনি দলের নানা দুঃসময়ে কঠিন দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংগঠনিক রিপোর্ট প্রনয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন একাধিক বার।

আমরা জানি, ইতিহাস দেশপ্রেমিকের জন্ম দেয়, আবার দেশপ্রেমিকই ইতিহাস সৃষ্টি করে। অথচ আজ মানুষের কাছে ভালোবাসা নেই, আছে শুধু স্বার্থের রসিকতা। এমন কথার ভীড়ে এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধারের মত মানবপ্রেমিক মানুষেরা টিকে থাকবেÑএটা ভাবাই যায় না। অথচ তিনি টিকে আছেন এবং টিকে থাকবেন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য।

লেখক : বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবং সভাপতি, কবি সংঘ বাংলাদেশ ।