নকলায় ধানের চারা বিতরণ ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে রোপন কার্যক্রম উদ্বোধন

37

মো. মোশারফ হোসাইন: শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে নাবী জাতের রোপা আমন ধানের চারা বিতরণ ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের পোলাদেশী গ্রামে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধানের চারা বিতরণ ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে খরিপ-২ মৌসুমে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় এসব চারা বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ মো. বোরহান উদ্দিন।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সারোয়ার আলম তালুকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন, উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার (এএও) কৃষিবিদ রোকসানা নাসরিন, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার (এইও) কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মনি, উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ও উপজেলা ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আলমগীর আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক খলিলুর রহমান ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম সোহেল প্রমুখ।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বানেশ্বরদী ইউনিয়নে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি অফিসার (এসএএও) মো. আশরাফুল আলম ও আসাদুল হক বাবুসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার (ইউএও) কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে ধানের চারা রোপন পদ্ধতিটি দ্রুত ও অধিক কার্যকরী, এতে সময় ও শ্রম অনেক কম লাগে। এটি দিয়ে এক বিঘা জমিতে চারা রোপন করতে ১ ঘণ্টা সময় রাগে ও ১ লিটার পেট্রোল জ্বালানী হিসেবে ব্যয় হয়। ধানের চারার কোন প্রকার অপচয় হয়না, এছাড়া চারা রোপনে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় থাকে, ফলে প্রতিটি চারা সমভাবে আলো, বাতাস ও খাবার পায়। কার্যকরী কুশির সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফলন ভালো হয় ট্রে তে চারা উৎপাদন করা হয় বিধায় প্রতিটি চারা সুস্থ-সবল হয়। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের সাহায্যে রোপনের জন্য যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ঘরোয়াভাবে চারা উৎপাদন করা সম্ভব এবং চারার বয়স ১২ দিন থেকে ১৫ দিন হলেই রোপন করা যায়। তাই দিন দিন এই পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন ও রোপনের প্রতি কৃষকরে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানান কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস।