জামালপুরে মা ও ছেলের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

90

আবুল কালাম আজাদ (জামালপুর প্রতিনিধি) : জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে স্ত্রী ও তার শিশু পুত্রকে হত্যা করেছে পাষন্ড স্বামী। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় স্বামী হারুণ অর রশীদ পলাশকে আটক করেছে পুলিশ। পরে পুলিশের কাছে স্ত্রী সন্তানকে হত্যার কথা স্বাকীর করেছেন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা গ্রামের হারুণ অর রশীদ পলাশ দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। দুই বছর আগে বিদেশ থেকে বাড়িতে ফিরে মুরগীর ফার্ম এবং স’মিলের ব্যবসা শুরু করেন। বিদেশ থেকে আসার পর থেকেই তার আচার আচরণ পাল্টে যায়। প্রায় স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যবহার এবং মারপিট করতেন। গত বছর বড় মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর পলাশ আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। প্রতিদিন গভীর রাতে বাড়িতে ফিরতেন। এসব ঘটনা নিয়ে স্ত্রী মুসলিমা আক্তার শিখা কিছু বললেই মারপিট করতেন। শিখা বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা তার মামীকে বলে আসেন। মেয়ে এবং মেয়ের জামাইয়ের কথা চিন্তা করে শিখা নিরবে সবকিছু মেনে নিতেন। ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে শিখা তার দুই ছেলে সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। পাষন্ড স্বামী পলাশ গভীর রাতে স্ত্রী ও ৩ বছরের শিশু তাওহীদকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে স্বামী হারুণ অর রশীদ পলাশ নিজে নাটক সাজিয়ে গুনারীতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়নাকে জানান। পরে চেয়ারম্যান মাদারগঞ্জ থানায় বিষয়টি অবহিত করেন। এদিকে খবর পেয়ে মাদারগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে।

মাদারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় শিখার বড় ভাই বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।

জামালপুরের পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বিপিএম পিপিএম (বার) জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী হারুণ অর রশীদ স্ত্রী সন্তানকে হত্যার করেছেন বলে স্বীকার করেছে। হত্যাকান্ডের আরো কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।